যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কারণে বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে শঙ্কা আরো বাড়ছে। ফলে আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়া অব্যাহত আছে। এছাড়া ডলারের নিম্নমুখী বিনিময় হারও মূল্যবান ধাতুটির বাজারদর বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি আউন্সের মূল্য পৌঁছেছে ২ হাজার ৯১৪ ডলারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৯২০ ডলার ১০ সেন্টে স্থির হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডলারের বিনিময় হার গত সপ্তাহে চার মাসের সর্বনিম্নের কাছাকাছি নেমেছিল।
অনলাইন ট্রেডিং প্লাটফর্ম ক্যাপিটালডটকমের অর্থনৈতিক বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, ‘বৈশ্বিক আর্থিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিও অনিশ্চয়তার একটি উৎস। এমন প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের চাহিদা ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি, শিগগিরই স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ডলারে পৌঁছবে। এমন পরিস্থিতি কয়েক মাসের মধ্যেই তৈরি হতে পারে।’
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের বারবার শুল্ক নীতির পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করছে। এতে মূল্যস্ফীতি তৈরি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যদিও মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট তার এ ধরনের উদ্যোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র মন্দার মুখে পড়তে পারে কিনা, তা নিয়ে অগ্রিম কিছু জানাতে রাজি হননি।
তিনি গত সপ্তাহে মেক্সিকো ও কানাডার পণ্য আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপ করেন। এছাড়া চীনের ওপরও আবার শুল্ক আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মেক্সিকোর বেশির ভাগ পণ্য ও কানাডার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে এক মাসের জন্য শুল্ক অব্যাহতি দেন।
এদিকে স্বর্ণের বাজারের বিনিয়োগকারীরা গত বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ও বৃহস্পতিবারের উৎপাদক মূল্য সূচক (পিপিআই) তথ্যের অপেক্ষা করছে।
সাধারণত ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও মূল্যস্ফীতির সময় আপৎকালীন বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদ বাড়িয়ে দেয়। তবে উচ্চ সুদহার মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা কমিয়ে দেয়।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে গতকাল স্পট মার্কেটে রূপার দাম কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ৩২ ডলার ৪৫ সেন্টে। এদিন প্লাটিনামের দাম আউন্সে ৯৬৩ ডলার ৩৭ সেন্টে স্থিতিশীল ছিল। এ সময় প্যালাডিয়ামের দামও অপরিবর্তিত থেকে ৯৪৮ ডলার ৬৪ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে।